:

বন্দরে একের পর এক ৩১ তেলের জাহাজ আসছে: এরপরও কমছে তেল সংকট

top-news

চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়লেও কমছে না জ্বালানি তেলের সংকট।

শনিবার পর্যন্ত চলতি মার্চ মাসে  ২৮দিনে  চট্টগ্রাম বন্দরে ৩১ টি তেলবাহী জাহাজ থেকে ৩১ জ্বালানি তেল খালাস করেছে চট্টগ্রামা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তেল খালাসের পর এসব জাহাজ এরই মধ্যে বন্দর ছেড়ে গেছে। শনিবার দুপুরেও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে আরো ৩টি জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাস চলছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আগামী ২/৪দিনের মধ্যে 
আরো  ২টি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করার কথা রয়েছে।

এদিকে, বিপিসির পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বললেও জ্বালানি তেল বিপননকারী রাষ্ট্রয়াত্ত বিভিন্ন সংস্থা থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)সূত্র তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে জ্বালানি তেলের রিফুয়েলিং ষ্টেশন আছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন। প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহাগরীতে জ¦ালানি তেলের রিফুয়েলিং ষ্টেশন আছে ৪৬টি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের ডিজেল মজুদ ছিল ২লাখ টন।

বিপিসি’র পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত থাকার কথা বলা হলেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে তেল বিপননকারী বিভিন্ন সংস্থার ডিপোগুলোতে। জ¦ালানি তেল বিপননকারী রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সংস্থা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল দেয়া হচ্ছে না বলে জানান এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেল পরিবহনের সাথে যুক্ত শ্রমিকরা জানান, যেখানে আগে ৪/৫গাড়ি তেল সরবরাহ করা হতো সেখানে এখন দিনে এক গাড়ি জ্বালানি তেল দেয়া হচ্ছে। এই এক গাড়ি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে তাদের সারাদিন লেগে যাচ্ছে। এতে নানাভাবে হয়রানি হচ্ছেন বলেও জানান পরিবহণ শ্রমিকরা। 

বিপিসি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকতা জানান, সংস্থাটি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েলসহ ৫ ক্যাটাগরির জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে যেপরিমান জ্বালানি তেল মজুত আছে  এবং পাইপলাইনে  থাকা তেল সঠিকভাবে বিপনন করা গেলে  আগামী  এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না। 

এদিকে চট্টগ্রামা বন্দরের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম জানান, বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩টি জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাস করা হয়। এর আগে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বৃহস্পতিবার। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে। সে জাহাজটি থেকেও জ্বালানি তেল এরমধ্যে খালাস করা হয়েছে। আগামী ২/৪দিনের মধ্যে আরো দু’টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সিডিউল আছে বলেও জানান তিনি। 

 বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ নামের একটি  ট্যাংকার বাংলাদেশের উপকূলে এসেছে। তাছাড়াও আগামী বুধবারের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

বন্দর সচিব জানান,  সবোর্চ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেল খালাসে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ জন্য তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

তবে, এতসব আয়োজনের মধ্যে জ¦ালানি তেল  খালাস এবং বিপনেন ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং মজুতদারীর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার  চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মুজুত করা ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। এসময় ডিজেল লোডিং আনলোডিং এর কাজে ব্যবহৃত ৩টি পাম্প জব্দ করা হয়। মামলা হয় চোরাচালান আইনে। 

তেল চোরাচালান এবং মজুতদারীর পেছনে প্রভাবশালীরা জাড়িত আছে বলে জানান অভিযানে যোগ দেয়া একাধিক কর্মকর্তা। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছে। জেলা প্রশাসন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,  সকল তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। যেকোন ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে  নিয়মিত অভিযান চালানোর কথাও জানায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাস এবং বিপননের ক্ষেত্রে বিপিসিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমুহের নজরদারি বৃদ্ধিসহ কঠোর মনিটরিং এর কথা  বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *